*ফতোয়া: মৃত লাশের অপমান – কবর থেকে উঠিয়ে পোড়ানোর বিষয়ে ইসলামী বিধান* (আশা করি সব সাথিরাই লেখাটি পড়বেন এবং ভিডিওটিও দেখবেন)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ইসলামী শরিয়াহ একটি সম্পূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যা আমাদের জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে নির্দেশনা প্রদান করে। মৃত্যুর পর মানুষেরলাশেরর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তার সঠিক দাফন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুরআন মজীদ এবং হাদীস শরীফে মৃত লাশকে অপমান করা, কাটাছেড়া করা বা পোড়ানোকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে, কোনো মুসলিম বা অমুসলিমের লাশকে কবর থেকে উঠিয়ে পোড়ানো বা ছাই করে দেওয়া সর্বাবস্থায় হারাম এবং এটি একটি পৃথিবীর নিকৃষ্ট অপরাধ। এটি শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির অসম্মান নয়, বরং কিয়ামতের দিন পুনরুত্থানের ধারণার সরাসরি বিরোধিতা। কুরআন মজীদের সুরা আল-বাকারা (২:১৫৬) আয়াতে ইরশাদ হয়েছে: “ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” – নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই ফিরে যাব। এই আয়াতটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে মৃত্যু একটি স্থানান্তর মাত্র – আল্লাহ তাআলার থেকে এসে দুনিয়ার পরীক্ষায় সফল হয়ে তাঁর কাছে ফিরে যাওয়া। যারা এমন নিকৃষ্ট কাজ করে, তারা আল্লাহ তাআলার জমিনে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি, কারণ তারা মানুষের মর্যাদা লঙ্ঘন করে, সে সমস্ত মজলুমদের পরিবারের হৃদয়ে অপূরণীয় ক্ষত সৃষ্টি করে এবং এ সমস্ত লোক আখিরাতের হিসাবকে অস্বীকার করে। এই ফতোয়ায় অধম কুরআন মজীদ, হাদীস শরীফ এবং বিখ্যাত ফকিহদের মতামতের ভিত্তিতে বিস্তারিত বিশ্লেষণসহ ফতোয়া / সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করব, যাতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট এবং আকর্ষণীয় হয়।
*কুরআন মজীদের দলিলসমূহ এবং বিশ্লেষণ*
কুরআন মজীদ মানুষের অস্তিত্বের মূল সত্যকে তুলে ধরে, যেখানে মৃত্যুর পর পুনরুত্থান একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। লাশ পোড়ানো এই সত্যকে চ্যালেঞ্জ করে, কারণ এটি শরীরকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়, যা আল্লাহ তাআলার ক্ষমতার বিরুদ্ধে যায়। নিম্নে কয়েকটি আয়াতের বিস্তারিত বিশ্লেষণ:
সুরা আয-যুমার (৩৯:৪২) “আল্লাহ মৃত্যুর সময় আত্মা নেন এবং যারা মারা যায়নি তাদের ঘুমের সময়ও আত্মা নেন, অতঃপর যাদের মৃত্যুর ফায়সালা হয়েছে তাদের আত্মা রেখে দেন এবং অন্যদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ছেড়ে দেন।”
اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا ۖ فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَىٰ عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْأُخْرَىٰ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
বিশ্লেষণ: এই আয়াতটি মৃত্যুর পর আত্মা এবং শরীরের সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করে। আত্মা আল্লাহ তাআলার কাছে যায়, কিন্তু শরীর কবরে থেকে কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবে। লাশ পোড়ানো এই পুনরুত্থানের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, যা ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক। এটি আল্লাহ তাআলার ক্ষমতাকে অস্বীকার করার সমতুল্য, যা একটি গুরুতর ও নিকৃষ্টতম গোনাহ।
সুরা আল-ইসরা (১৭:৪৯-৫১): “আর তারা বলে, আমরা যখন হাড় এবং ধুলো হয়ে যাব, তখন কি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টিতে উঠানো হবে? বলো, তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও, অথবা তোমাদের মনে যা কঠিন মনে হয় তা হয়ে যাও। তারা বলবে, কে আমাদেরকে ফিরিয়ে আনবে? বলো, যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন।”
وَقَالُوا أَإِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا قُل كُونُوا حِجَارَةً أَوْ حَدِيدًا أَوْ خَلْقًا مِّمَّا يَكْبُرُ فِي صُدُورِكُمْ ۚ فَسَيَقُولُونَ مَن يُعِيدُنَا ۖ قُلِ الَّذِي فَطَرَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ ۚ فَسَيُنْغِضُونَ إِلَيْكَ رُءُوسَهُمْ وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هُوَ ۖ قُلْ عَسَىٰ أَن يَكُونَ قَرِيبًا
বিশ্লেষণ: এই আয়াতটি কাফিরদের কেয়ামতের দিনের প্রতি অবিশ্বাসের উত্তর দেয়, যারা পুনরুত্থানকে অসম্ভব মনে করে। আল্লাহ তাআলা বলছেন যে হাড়-ধুলো বা এমনকি পাথর-লোহা থেকেও তিনি পুনরুত্থিত করতে পারেন। লাশ পোড়ানো যেন এই ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে, যা ঈমানের দুর্বলতা প্রকাশ করে। এটি শুধু হারাম নয়, বরং নিকৃষ্ট কুফরের সীমানায় পৌঁছে যায়।
এছাড়া, সুরা আল-মুমিনুন (২৩:১২-১৬) এবং সুরা কিয়ামাহ (৭৫:৩-৪) পুনরুত্থানের বিস্তারিত বর্ণনা করে, যা লাশের সম্মান রক্ষার গুরুত্বকে আরও জোর দেয়। এই আয়াতসমূহ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে লাশ পোড়ানো আল্লাহ তাআলার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায় এবং মুসলিমদের জন্য এটি একটি নিকৃষ্ট হারাম কাজ।
*হাদীস শরীফের বিস্তারিত উপস্থাপনা এবং বিশ্লেষণ*
এই হাদীস সমূহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে প্রতিফলিত করে আমাদের জীবনে, যা প্রকৃত অর্থে মৃত লাশের প্রতি সম্মানের নির্দেশ দেয়। নিম্নে কয়েকটি হাদীসেরও পূর্ণ বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়া হয়েছে যাতে বিষয়টি আরও গভীর কিভাবে সুস্পষ্ট হয়।
১. সহিহ বুখারি (১৩৯৩):
لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا।
বাংলা: “মৃতদের অভিশাপ দিও না, তাদেরকে ভৎসনা করো না, কারণ তারা তাদের পূর্বকৃত কর্মের ফলভোগ করছে।”
তাহকিক: সহিহ (আসল সূত্র: সহিহ বুখারি, কিতাব আল-জানাইজ)।
বিশ্লেষণ: এই হাদীসটি মৃতদের প্রতি কোনো প্রকার অপমান নিষিদ্ধ করে। মৃত্যুর পর তারা আল্লাহ তাআলার কাছে হিসাবের জন্য গেছে, তাই তাদের লাশকে পোড়ানো যেন তাদের কর্মের ফলকে অস্বীকার করা। এটি জীবিতদের মনে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং সমাজের মানবিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে।
২. সহিহ বুখারি (২৪৭৪):
نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ النُّهْبَى وَالْمُثْلَةِ।
বাংলা: “নবী (সা.) লুটপাট এবং দেহের মুসলা (কাটাছেড়া বা অপমান) থেকে সুস্পষ্ট নিষেধ করেছেন।”
তাহকিক: সহিহ (সহিহ বুখারি, কিতাব আল-মাজালিম)।
বিশ্লেষণ: মুসলা অর্থ দেহের অপমান ও পোড়ানোকে বুঝানো হয়। এমনকি যুদ্ধের সময়ও এটি নিষিদ্ধ, যুদ্ধ তাহলে যুদ্ধ ছাড়া শান্তিতে কবর থেকে উঠিয়ে পোড়ানো তো একটি নিকৃষ্টতম অপরাধ, যা মানুষের মর্যাদাকে পশুর স্তরে নামিয়ে আনে।
৩. সহিহ মুসলিম (১৭৩১):
نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَهْبٍ وَمُثْلَةٍ
(যুদ্ধের প্রসঙ্গে)
বাংলা: “নবী (সা.) যুদ্ধে লুণ্ঠন এবং মৃতদেহের অপমান থেকে নিষেধ করেছেন।”
তাহকিক: সহিহ (সহিহ মুসলিম, কিতাব আল-জিহাদ ওয়াস সিয়ার)।
বিশ্লেষণ: যুদ্ধকালীন অবস্থায়ও মৃতদেহকে সম্মান করতে হবে। এটি থেকে বোঝা যায় যে শান্তিকালে কবর খুঁড়ে লাশ পোড়ানো একটি বর্বর কাজ, যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে মোটেই যায় না এবং আখিরাতে এটি যে কঠোর শাস্তির কারণ হবে উক্ত লাশ পড়ানো ব্যক্তিদের তাতে কোন সন্দেহ নেই।
৪. সুনান আত-তিরমিযি (১৯৮২):
لَا تَشْتُمُوا الْأَمْوَاتَ فَتُؤْذُوا الْأَحْيَاءَ।
বাংলা: “মৃতদের গালি দিও না, কারণ এতে জীবিতরা কষ্ট পায়।”
তাহকিক: হাসান সহিহ (জামি আত-তিরমিযি)।
বিশ্লেষণ: মৃতের অপমান জীবিতদের মানসিক কষ্ট দেয়। লাশ পোড়ানো পরিবারের জন্য অসহনীয় যন্ত্রণা, যা সমাজের সামাজিক সম্পর্ককে বিপর্যস্ত করে এবং এটি ইসলামের ভ্রাতৃত্বের নীতির সরাসরি বিরুদ্ধে যায়।
৫. সহিহ বুখারি (১২৬৫/১২৬৭):
اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْنِ وَلَا تُحَنِّطُوهُ وَلَا تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ।
বাংলা: “তাকে পানি এবং সিদ্র দিয়ে ধৌত করো এবং দুটি কাপড়ে কফন দাও, সুগন্ধি লাগিও না এবং মাথা ঢেকো না।”
তাহকিক: সহিহ (সহিহ বুখারি, কিতাব আল-জানাইজ)।
বিশ্লেষণ: এই হাদীসটি মৃতের গোসল এবং কফনের বিধি বর্ণনা করে, যা লাশের সম্মান রক্ষার প্রতীক। পোড়ানো এই সুন্নাহের বিপরীত, যা মুসলিমদেরকে দাফনের পথ থেকে বিচ্যুত করে এবং আখিরাতের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত করে।
৬. সহিহ মুসলিম (৯৪৩):
নবী (সা.) বলেছেন: “মৃতের হাড় ভাঙা জীবিতের হাড় ভাঙার মতো।”
كَسْرُ عَظْمِ الْمَيِّتِ كَكَسْرِهِ حَيًّا)
তাহকিক: সহিহ।
বিশ্লেষণ: এটি মৃত লাশের প্রত্যেক অংশকে সম্মান করার নির্দেশ দেয়। পোড়ানো হাড়-মাংস সব ধ্বংস করাটা হল জীবিতকে আঘাত করার সমতুল্য এবং একটি সবচাইতে মহাপাপ গুলোর একটি মহাপাপ।
৭. সুনান আবু দাউদ (৩২০১): “মৃতকে পোড়াবে না।” তাহকিক: সহিহ।
বিশ্লেষণ: এটি সরাসরি পোড়ানো নিষিদ্ধ করে। কবর থেকে উঠিয়ে পোড়ানো তো এর চরম রূপ, যা ইসলামের মানবিকতাকে অস্বীকার করে এবং আখিরাতে জাহান্নামের আগুনের কারণ হবে। অর্থাৎ এর থেকে নিকৃষ্ট কাজ আল্লাহর দুনিয়াতে আর দ্বিতীয়টি নেই।
*ফকিহদের ফতোয়া এবং কিছু গ্রহণযোগ্য কিতাবের রেফারেন্সসহ বিশ্লেষণ*
বিখ্যাত ফকিহরা কুরআন ও হাদীসের ভিত্তিতে লাশ পোড়ানোকে হারাম বলেছেন। নিম্নে পাঁচটি কিতাবের রেফারেন্সসহ পৃষ্ঠা নম্বর এবং বিশ্লেষণ উল্লেখ করা হলো:
১. দুররে মুখতার: এই কিতাবটিতেও মৃত লাশের সম্মান রক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। ফতোয়ায় বলা হয়েছে, যে লাশ পোড়ানো আল্লাহর সৃষ্টি মানুষের মর্যাদা সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে এবং এটি হারাম এবং কুফর, কারণ এটি কেয়ামতের দিন পুনরুত্থানের ধারণার সরাসরি বিরোধী (ভলিউম ১, পৃষ্ঠা ৬৮০, কিতাব আল-জানাইজ অধ্যায়)।
বিশ্লেষণ: এটি হানাফি ফিকহে লাশের অপমানকে তাজির (প্রয়োজনে সর্বোচ্চ শাস্তি) যোগ্য অপরাধ বলে, যা সমাজে নৈতিকতা রক্ষা করে।
২. ফতাওয়া আলমগিরি: হানাফি ফিকহের এই কিতাবে স্পষ্টভাবে লাশ পোড়ানোকে নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। মৃতদেহের অপমান যেমন কাটাছেড়া বা পোড়ানো হারাম, এবং কবর খোড়া শুধুমাত্র বৈধ কারণে অনুমোদিত (ভলিউম ৫, পৃষ্ঠা ৩৫০, কিতাব আল-জানাইজ)।
বিশ্লেষণ: ইসলামী রাষ্ট্রে লাশের সম্মানকে রাষ্ট্রীয় আইনি সুরক্ষা দেয় এবং উক্ত আইনটি অমুসলিমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
৩. বাহারে শরিয়ত: এই কিতাবে লাশ পোড়ানোকে সরাসরি হারাম বলা হয়েছে। মৃতের হাড় ভাঙা বা পোড়ানো শরীয়তের সুস্পষ্ট নিষিদ্ধ, এবং এটি মুসলিম বা অমুসলিমের লাশের ক্ষেত্রে সম্মান ভাবে রক্ষা করতে হবে (ভলিউম ১, পৃষ্ঠা ৬৮০, কিতাব আল-জানাইজ অধ্যায়)।
বিশ্লেষণ: এটি সাধারণ মুসলিমদের জন্য সহজবোধ্য ফতোয়া, যা লাশ পোড়ানোকে সরাসরি স্পর্শকাতর মানবিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে এবং সমাজে শান্তি রক্ষায় সহায়ক।
৪. কিতাবুল ফতাওয়া: এটিতেও কবর খোড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে সরাসরি, যতক্ষণ না লাশ ধুলোয় পরিণত হয় অর্থাৎ মাটির সাথে মিশে যায়, এবং পোড়ানো মৃতের মর্যাদা লঙ্ঘন করে হিসাবে সম্পূর্ণ হারাম (ভলিউম ৫, পৃষ্ঠা ৩৫০)।
বিশ্লেষণ: এটিও আমাদের দেওবন্দী ফতোয়ার কিতাবের গ্রন্থ, যা কবরের পবিত্রতাকে জোর দেয় এবং পোড়ানোকে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধ বলে।
৫. ফতাওয়া রাজভিয়া: এবং বেরলবিদের আহমদ রাজা খান রহ. তিনিও লিখেছেন যে লাশ পোড়ানো হারাম, কারণ মৃত্যুর পরও শরীরের অস্তিত্ব থাকে এবং এটি আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির অপমান ছাড়া কিছুই নয় (ভলিউম ৯, পৃষ্ঠা ৮৩, কিতাব আল-জানাইজ)। বিশ্লেষণ: এটি ব্রেলভী ফতোয়া, যা লাশের সম্মানকে আধ্যাত্মিকতার সাথে যুক্ত করে এবং অমুসলিমের ক্ষেত্রেও মানবিকতা রক্ষার নির্দেশ দেয়। অর্থাৎ আমাদের দেওবন্দী আলেমরা ছাড়াও বাকি আলেমরাও মৃতের লাশ পড়ানো কে প্রত্যাখ্যান করে। এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।
*সিদ্ধান্তমূলক হুকুম এবং বাস্তব প্রয়োগ এর জন্য সরাসরি ইসলামিক ফতোয়া*
উপরোক্ত কুরআনী আয়াত, সহি হাদিস এবং আমাদেরই বিভিন্ন ঘরোনার ফকিহদের ফতোয়ার বিস্তারিত বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয় যে’ সর্বাবস্থায় মুসলিম বা অমুসলিমের লাশ কবর থেকে উঠিয়ে পোড়ানো সম্পূর্ণ হারাম। এটি দুনিয়াতে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ (যেমন আইনি মামলা তো আছেই) এবং আখিরাতেও গুরুতর গোনাহ, যা লাশ পোড়ানো উক্ত ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। যে বা যারা এমন কাজ করে, তারা আল্লাহ তাআলার জমিনে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি, কারণ তারা ইসলামের মানবিক শিক্ষাকে অস্বীকার করে এবং সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে দাওয়াতকে ছেড়ে উগ্রতার মাধ্যমে ইসলামকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। মুসলিমদের উচিত এমন কাজ থেকে বিরত থাকা, মৃতকে সম্মানের সাথে দাফন করা এবং অন্যদেরকে এই বিষয়ে সচেতন করা। তবে যারা এই সমস্ত সংস্কৃতিকে চালু রেখেছে আল্লাহ যেন তাদের দুনিয়াতেই উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করে এইজন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া আমাদের জন্য জরুরী এবং আল্লাহর কাছেও দোয়া করা আল্লাহ যেন তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করেন। তবে দোয়া করি আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক পথ দেখান এবং হারাম থেকে রক্ষা করুন। এবং এই অপসংস্কৃতি ধ্বংসের অধমের এই ক্ষুদ্র চেষ্টাকে আল্লাহ যেন কবুল করেন, আমিন।
বান্দা আহকারুল ওয়ারা…
About The Author
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

